গরমে অতিষ্ঠ? জেনে নিন গরমের পোশাক কেমন হবে সে বিষয়ে 5-6 টি টিপস।

গরমের পোশাক নির্বাচন

গরমের পোশাক
গরমের পোশাক

এপ্রিল মাস আসতে না আসতেই বাংলাদেশে গরম পড়া শুরু হয়ে যায়। গরমে স্বস্থিতে থাকতে হলে পোশাক নির্বাচনে সচেতন থাকা প্রয়োজন। গরমকালে নির্দিষ্ট কিছু পোশাক নির্বাচন করলে গরমের তেজ থেকে অনেকটাই রেহাই পাবেন। মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশের প্রচলিত সকল স্থানীয় বস্ত্রই কিন্তু গরমে পোশাক নির্বাচন করার জন্য উপযুক্ত।

গরমের পোশাক নির্বাচনে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে পোশাক যেন মোটা না হয়, পাতলা বা সুতি কাপড় হলে ভালো হয়। সহজে বায়ু চলাচল করতে পারে এমন পোশাকই গরমকালের উপযুক্ত পোশাক। এছাড়া সর্বদাই হালকা রঙের পোশাক পরিধান করুন। কেননা হাল্কা রঙের পোশাক সূর্যের আলোর রং খুব কম শোষণ করে। অপরদিকে গাঢ় রঙের পোশাক সূর্যের আলোর রং বেশি শোষণ করে এবং পোশাক, তথা শরীরও গরম করে ফেলে।

দেশে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা আলাদা পোশাকের ব্যবস্থা আছে। যদিও এখন অনেক নারীই পুরুষদের পোশাকও পরিধান করছেন, যা এখন অনেকটাই সাধারণ। তবে অস্বস্থিকর অবস্থা এড়িয়ে চলতে হলে পোশাক নির্বাচন করতে আমাদের চারপাশের কালচারের দিকেও নজর দিতে হবে। চলুন জেনে নেই নারী ও পুরুষদের জন্য গরমকালের পোশাক কেমন হবে।

পুরুষদের জন্য গরমে পোশাক নির্বাচন

১. হালকা রঙের সামান্য ঢিলা টি-শার্ট পরিধান করুন। টি-শার্ট বাংলাদেশের পুরুষদের কাছে জনপ্রিয় একটি পোশাক। সুতি টি-শার্ট পড়তে সকলেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।

২. ফতুয়া বাংলাদেশে রুচিশীল একটি পোশাক হিসেবে বিবেচিত। এই পোশাক এমনভাবে ডিজাইন করা যে গরমকালে পরিধান কপ্রার উপযুক্ত। ফতুয়া শুধু পুরুষরাই নয়, বর্তমানে নারীদের কাছেও সমান জনপ্রিয়।

৩. বাসায় সেন্টু গেঞ্জি পড়ুন। খোলামেলা এই পোশাক পড়লে গরমের কোনো খবরই পাওয়া যায় না।

৪. হাফপ্যান্ট অথবা ট্রাউজার ব্যবহার করতে পারেন। হালকা এই পোশাকের ভেতরে বায়ু চলাচলের উপযোগী হওয়ায় ভেতরের অঙ্গসমূহকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।

৫. গরমকালে লুঙ্গির মতো উপযুক্ত পোশাক আর একটি নেই। লুঙ্গির নিচের দিকে পুরো অংশ খোলা থাকে ফলে বাতাস চলাচলের সুবিধা আছে। এছাড়া লুঙ্গি পড়ে আরাম মতো যেকোনো ভঙ্গিতে বসতে পারেন, হাটতে পারেন অথবা ঘুমাতে পারেন। লুঙ্গি অত্যন্ত ঢিলা, কোনো আঁট নেই। শুধু বাসায় নয়, সেই সাথে বাহিরেও লুঙ্গি পরিধান করতে পারেন।

৬. পাঞ্জাবি একটি রুচিশীল পোশাক। বর্তমানে যেকোনো ইভেন্টেই পাঞ্জাবি মানানসই একটি পোশাক। ছেলেরাও পাঞ্জাবি পড়তে স্বাচ্ছন্দবোধ করে থাকে। হালকা রঙের পাঞ্জাবি গরমকালের জন্য নিঃসন্দেহে চমৎকার।

নারীদের জন্য গরমে পোশাক নির্বাচন

১. বাংলাদেশের নারীদের পছন্দের পোশাক হচ্ছে শাড়ি। শাড়ি লম্বা একটি বস্ত্র হলেও গরমকালে এই পোশাকটি কিন্তু উপযুক্ত। কেননা এই পোশাকে বায়ু চলাচল অত্যন্ত সহজ। এছাড়া সুতি কাপড়ের শাড়ি পরিধান করলে অধিক আরাম পাওয়া যায়।

২. ছেলেদের মতো মেয়েরাও এখন টি-শার্ট পড়তে পছন্দ করে। ঘরে পড়া ছাড়াও বাহিরের জন্যেও টি-শার্ট উপযুক্ত একটি পোশাক হতে পারে। তবে ফুল হাতা শার্ট পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা ফুল হাতা শার্টে বায়ু চলাচলের সুযোগ কম, তাই ফুল হাতা শার্ট পরিধানের ফলে অতিরিক্ত ঘামের সৃষ্টি হপ্তে পারে।

৩. কুর্তি এখন মেয়েদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং মর্ডান পোশাক। কুর্তি কেনার আগে ডিজাইন ও রং দেখে কেনুন।

৪. বাংলাদেশের বেশিভাগ নারীই সালোয়ার কামিজ পড়ে থাকেন। কারণ এটি সত্যিই একটি আরামদায়ক পোশাক। দারুণ সকল ডিজাইনের সালোয়ার পাওয়া যায় বাংলাদেশে, যা রুচিসম্মত। শুধু বাসা-বাড়িতেই নয়, সালোয়ার যেকোনো অফিশিয়াল কার্যক্রমেও উপযুক্ত পোশাক হিসেবেই বিবেচিত।

৫. ফতুয়া, মেক্সি, প্লাজু ইত্যাদিও ঢিলেঢালা পোশাক বলে বিবেচিত। গরমকালে বেশিভাগ নারী এগুলো পরিধান করে থাকেন। আপনিও স্থান ভেদে নিজের উপযুক্ত পোশাকটি বেছে নিন।

এছাড়া সর্বদাই ধোয়া ও পরিষ্কার কাপড় পরিধান করুন। সুগন্ধিযুক্ত কাপড়-কাচা সাবান বা কাপড় ধোয়া পাউডার দিয়ে কাপড় ধুতে হবে। ঘাম গন্ধযুক্ত পোশাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকবেন। এই পোশাক পড়লে আরো অস্বস্তি লাগবে এবং চিটচিটে ভাব চলে আসবে। এদিকে নিয়মিত গোসল করলে গরমভাব অনেকটাই দূর হয়ে যায়। গোসল করে পরিষ্কার কাপড় পরিধান করলে সতেজ অনুভব করবেন।

গরমকালে উপযুক্ত পোশাক পরিধান না করতে পারলে তীব্র অস্বস্থিতে পড়তে পারেন। এছাড়া গরমকালে মানুষ প্রচুর ঘেমে যান। পাবলিক প্লেসে ঘামে লটপটিয়ে গেছে অনেকটাই দৃষ্টিকটু দেখায়, অনেকেই লজ্জায় পড়েন। তাই গরমে পোশাক নির্বাচন করতে হবে ভেবেচিন্তে যেনো সৌন্দর্য সাথে সাথে স্বস্থিতে থাকা যায়, আবার আমাদের চারপাশের কালচারের সাথেও সুন্দর ভাবে মানিয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ https://tuneoflife.com/blog-2

Leave a Comment

%d bloggers like this: