সন্তানের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য বিষয়ে জানুন। এই 08(আট) টি বিষয় অবশ্যই গুরুত্ব দিন।

আপনার সন্তানের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য

বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য
বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য

প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে বয়ঃসন্ধিকাল আসে। এটি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ধাপ পেরিয়েই একজন কিশোর বা কিশোরী পূর্নাঙ্গ পুরুষ বা নারীতে পরিণত হয়। এই সময়ে কিশোর কিশোরীদের মধ্যে শুধু শারীরিক পরিবর্তন নয়, মানসিক পরিবর্তনও ঘটে। বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য ও সচেতনতাই আজকের আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু।

বয়ঃসন্ধিকাল কি?

বয়ঃসন্ধিকাল হচ্ছে যেই সময়টি যখন শিশু একজন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠে এবং প্রজনন সক্ষমতা লাভ করে। মূলত বয়ঃসন্ধিকাল হচ্ছে বাল্যকাল ও যৌবনকালের মাঝের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।

মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল সাধারণত ছেলেদের আগেই হয়ে থাকে। বাংলাদেশে মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল ১০ বছর থেকে ১৯ বছরের মধ্যে আর ছেলেদের ১২ বছর থেকে ১৯ বছরের মধ্যে স্থায়ী হয়। বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে নানারকম পরিবর্তন দেখা যায়। এসকল পরিবর্তন শারীরিক, মানসিক ও আচরণগত দিক দিয়ে হতে পারে।

বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক পরিবর্তন

ছেলেদের ক্ষেত্রে:

  • দাড়ি-গোঁফ গজায়
  • বীর্যপাত হয়
  • শরীরে বিভিন্ন স্থানে লোম গজায়
  • রাতে স্বপ্নদোষ হতে পারে
  • দেহ পেশিবহুল ও শক্ত হয়
  • উচ্চতা ও ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে
  • গলার স্বরের পরিবর্তন ঘটে

মেয়েদের ক্ষেত্রে:

  • উচ্চতা ও ওজন দ্রুত বাড়ে
  • ঋতুস্রাব হয়
  • শরীরে চর্বি জমে
  • শরীর হালকা ও কামুক হয়
  • কণ্ঠ চিকন হয়ে যায়
  • মুখে ব্রণ উঠে
  • কোমর বড় হয়

বয়ঃসন্ধিকালে মানসিক পরিবর্তন

শারীরিক পরিবর্তনের মতো মানসিক পরিবর্তনেরও প্রভাব বয়ঃসন্ধিকালে দেখা মেলে। এই সময়ে কিশোর কিশোরীরা মূলত একা চিন্তা করে বেশি, তাই নিজেদের মনে নানা রকম প্রশ্ন ঘুরপাক খায়। এছাড়া তাদের মানসিক পরিবর্তনগুলো অনেক সময় তাদের সাহসী কাজেও উদ্ভুদ্ধ করতে পারে। নিজে দেখে নিন, বয়ঃসন্ধিকালে একজন কিশোর বা কিশোরীর মধ্যে কোন কোন মানসিক পরিবর্তন দেখা মেলে–

  • বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ
  • ঝুকিপূর্ণ কাজ করার ইচ্ছাপোষণ
  • কারো কথা না শোনা
  • নিজেকে জাহির করে বেড়ানোর প্রবণতা
  • অনেক প্রশ্ন করার প্রবণতা
  • অধিক স্বাধীনতা চাওয়ার ইচ্ছা
  • নতুন বন্ধু বানানোর প্রচেষ্টা
  • সকলের মনোযোগ বাগানোর প্রচেষ্টা
  • ভুল পথে অগ্রসর হওয়ার ঝুকি
  • পরিবারকে সময় না দেওয়া
  • পরিবারের সাথে খোলামেলাভাবে না কথা বলা
  • যেকোনো কাজকে প্রতিযোগিতার বিবেচনা করা
  • নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি টান বা আগ্রহ প্রদর্শন
  • নিজ শরীর নিয়ে আগ্রহ

বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা

বয়ঃসন্ধিকাল একজন মানুষের জীবনে বড় ভূমিকা রাখে। এই সময় শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে কোনো ত্রুটি হলে এর প্রভাব যৌবনকালেও দেখা মেলে। তাই বয়ঃসন্ধিকালে স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতার বিশেষ প্রয়োজন আছে।

সন্তানের বয়ঃসন্ধিকালে পিতামাতাকেই প্রধান ভূমিকা নেওয়া উচিত। সন্তানের সাথে বন্ধুর মতো সম্পর্ক গড়ে তুলে বয়ঃসন্ধি ও বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য নিয়ে সন্তানদের সচেতনতা সৃষ্টি করা বড় একটি সুযোগ।

১. পুষ্টিকর খাদ্য খেতে দিতে হবে

বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক পরিবর্তনগুলো দ্রুত ঘটে। এই পরিবর্তনগুলোর জন্য কিশোর কিশোরীদের প্রয়োজন সুষম খাদ্য ও পুষ্টি। তাই তাদের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে হবে। আমিষের পাশাপাশি ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ রঙ্গিন ফলমূল খেতে হবে।

২. জ্ঞানের ক্ষুদা পূরণ করতে হবে

এই বয়সে সকলেই সাধারণত কৌতূহলী হয়ে থাকে। তাদের মনে নানা প্রশ্ন থাকতে পারে, যার উত্তর সহজে হয়তো কেউ দিতে পারে না বা তারা প্রশ্ন করতে সংকোচ করতে পারে। এখানে পরিবারের সদস্যরা মূখ্য ভূমিকায় তাদের কৌতূহল মিটাতে পারেন।

৩. অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন

বয়ঃসন্ধিকাল পার করেছেন এমন কেউ তার অভিজ্ঞতাগুলো ছোটদের কাছে শেয়ার কর‍তে পারে।

৪. তার আবেগ, মতামত ও ইচ্ছাগুলোকে গুরুত্ব দিন

এই বয়সেই কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের আবেগ, মতামত ও ইচ্ছাগুলোকে অন্যদের জানাতে চায়। এক্ষেত্রে তাদের আবেগ, মতামত ও ইচ্ছাগুলোকে গুরুত্ব দিন, তাদের ভুলগুলো শুধরিয়ে দিন।

৫. সৃজনশীল কাজ করতে অনুপ্রেরণা দিন

কিশোর কিশোরীরা এই সময়ে বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে নিজেদের জড়িয়ে ফেলে। এছাড়া খেলাধুলা ও ব্যায়াম চর্চার মতো কাজগুলোতে তাদের অংশগ্রহণ করতে উৎসাহ প্রদান করুন। এগুলো তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করবে।

৬. স্বাধীনতা দিন

কিশোর-কিশোরীরা এই সময়ে বাড়তি স্বাধীনতা চায়। এটি হিতের বিপরীতে গেলেও তাদের স্বাধীনতা চর্চার সুযোগ দেওয়া উচিত। এই চর্চা মানসিক বিকাশে কি-রোল পালন করবে এবং আত্মনির্ভরতা আনবে।

৭. ভুল থেকে শিখতে দিন

ভুল করার বয়স বলা হয়ে থাকে বয়ঃসন্ধিকালকে। এই সময়ে জীবনের কিছু বড় বড় ভুল সিন্ধান্ত নিয়ে ফেলে তারা। কিন্তু তাদের এর জন্য বকাঝকা করা উচিত নয় বরং তারা কোথায় ভুল করল এবং কিভাবে ভুল করা থেকে বাচা যায় সেটি সম্পর্কে জ্ঞান দিন।

৮. পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বলুন

বয়ঃসন্ধিকালে মানুষ প্রজনন সক্ষমতা লাভ করে। এসময়ে জনন অঙ্গসহ পুরো শরীর পরিষ্কার রাখা জরুরি। এছাড়া বীর্যপাত বা মাসিকের সময় কিভাবে তারা নিজেদের পরিচ্ছন্ন রাখবে সেটি সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ https://tuneoflife.com/blog-2

Leave a Comment

%d bloggers like this: