মানসিক স্বাস্থ্য !! ভালো রাখার 15 টি উপায়।

মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং ভালো রাখার উপায়

মানসিক স্বাস্থ্য
মানসিক স্বাস্থ্য

অনেকেই শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হলেও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন নয়। স্বাস্থ্য বলতে অনেকেই শারীরিক স্বাস্থ্যকেই বুঝে থাকেন, মানসিক স্বাস্থ্যকে এড়িয়ে যায়। কিন্তু সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়েও জানা থাকা প্রয়োজন।

মানসিক স্বাস্থ্য কী?

মানসিক স্বাস্থ্য হচ্ছে মনের স্বাস্থ্য। অবসাদ, বিষন্নতা, খিটখিটে মেজাজ ইত্যাদি যেমন আমাদের মনকে অসুস্থ করে দেয় তেমনি প্রফুল্লতা, উল্লাস, ভালোবাসা ইত্যাদি আমাদের মনকে সতেজ ও সুস্থ রাখে।

প্রকৃতপক্ষে শারীরিক স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্য একে অপররের সাথে যুক্ত। কেউ শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হলে তার মনের স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটে। তেমনই মানসিক স্বাস্থ্যের হেরফের হলে তার প্রভাব শারীরিক স্বাস্থ্যেও দেখা যায়।

মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমানে মানুষজন শারীরিক অসুস্থতার চেয়ে মানসিক অসুস্থতায় বেশি ভুগছে। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মন বিষন্নতা, অবসাদে আক্রান্ত। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মাঝে এর হার অনেক বেশি।

আমরা এখন শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর অনেক সচেতন হয়েছি। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অতটাও সচেতন নই। এর পেছনের মূল কারণগুলো হচ্ছে অনেকেই মানসিক স্বাস্থ্যকে স্বাস্থ্যের অংশ বলে মনে করে না এবং মানসিক অসুস্থতার প্রভাব সম্পর্কেও ধারণা রাখেন না।

কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার উদাসীনতার প্রভাব আমরা বর্তমানে অনেক দেখতে পাই। বিষন্নতায় আক্রান্ত অনেক কিশোর ও তরুণ আত্মহত্যার মতো জঘন্য কাজে বাধ্য হচ্ছেন। বড়রাও পিছিয়ে নেই। মানসিক অসুস্থতা ভয়াবহ রূপ নিয়ে অনেকেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এতে কোনো সন্ধেহ নেই, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা আমাদের গ্রহণ করতে হবে।

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়

কিভাবে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখবেন? মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে আপনাকে শুরুতে মনকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে নিচের ১৫ টি উপায় মেনে চলুন।

১. পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ঘুমান। একজন মানুষের জন্য দৈনিক ৭ থেকে ৯ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন। ঘুম ভালো হলে মনও ভালো থাকে।

২. ধুমপান বা মাদক ত্যাগ করুন। এসব নেশাজাতীয় সামগ্রী আমাদের মনকে হতাশায় ঢুবিয়ে দেয়। এগুলো গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।

৩. মানুষদের সাথে মেলামেশা করুন। যত নতুন নতুন মানুষদের সাথে মিশবেন ততই ভালো মানসিকতা বৃদ্ধি পাবে।

৪. নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীরচর্চা করুন। আগেই বলেছি শারীরিক স্বাস্থ্যের সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের সংযোগ রয়েছে। শারীরিক অবস্থা ভালো থাকলে মানসিক অবস্থাও ভালো থাকে।

৫. বই পড়ুন। বই পড়লে মানসিক সুস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে, যা গবেষণা থেকে প্রাপ্ত।

৬. নিজের ভুল স্বীকার করা শিখুন। নিজের ভুল স্বীকার করা একটি মহৎ গুণ। এর ফলে মনে আলাদা এক প্রশান্তি আসে। তবে ভুল স্বীকার করে নিজের ত্রুটি নিয়ে হতাশা নিয়ে থাকা যাবে না।

৭. পরোপকারী হোন। অনেক সাহায্য করার মাঝে একটি আলাদা অনুভূতি আছে, যা মানুষদের মনে ভালো উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। মন-মানসিকতা ভালো করার জন্য পরোপকার করার বিকল্প নেই।

৮. পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন। অপুষ্টি মানসিক অবসাদের সৃষ্টির কারণ হতে পারে। তাই মাছ, মাংস, ডিম, সবজি, ডাল ইত্যাদির মতো পুষ্টিকর খাবারগুলো খেতে হবে।

৯. নিজের পছন্দের কাজগুলো করুন। পছন্দের কাজগুলো করার মাধ্যমে মন ভালো থাকে এবং কাজ করার শক্তি পাওয়া যায়।

১০. নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকুন। অবসাদ ও বিষন্নতায় আক্রান্ত হলে নিজেকে তুচ্ছ বলে মনে হতে পারে। নিজেকে নিয়ে ব্যস্থ থাকলে আপনি সহজে এগুলোকে এড়িয়ে থাকতে পারবেন।

১১. অন্যদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন। আমাদের জীবনে অনেকেই আছেন যারা আমাদের কোনো না কোনো কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। তাদের কাজের জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন এবং এমন ভালো বন্ধু থাকার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করুন।

১২. অন্যের ভুলগুলো ক্ষমা করতে শিখুন। এটি একটি মহৎ গুণ। অন্যের ভুলগুলো ক্ষমা করে দিলে মন থেকে অনেক বোঝা কমে যায়, আবার পুরাতন সম্পর্কগুলো আবার আশার মুখ দেখে।

১৩. বেশি করে হাসুন। মন ভালো রাখতে হলে হাসুন বেশি করে। টেলিভিশন বা ইউটিউবে হাসির শোগুলো দেখতে পারেন। 

১৪. পোষা প্রাণী পালন করুন। বিড়াল, কুকুর ইত্যাদির মতো এসব প্রানীগুলোর প্রতি সময় দিলে মন ভালো হয়ে যায়, সমস্ত দুঃচিন্তা থেকে অনেক দূরে থাকা যায়।

১৫. শখের কাজগুলো করুন। আমাদের প্রত্যেকের কোনো না কোনো শখ রয়েছে। শখের কাজ করার মাঝে আলাদা একটি ভালো লাগা কাজ করে। শখের কাজগুলো করলে মন আপনাআপনি ভালো হয়ে যায়।

মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো এখন জরুরি হয়ে গেছে। অবসাদ, হতাশা ও বিষন্নতা এখন সমাজে বিষফোঁড়া হয়ে দাড়িয়েছে। মানসিকভাবে অসুস্থ অনেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে তারাও ঝুকিতে আছে। তাই মাঠপর্যায় থেকে মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে।

স্কুল-কলেজে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আলাদা পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত এবং আমাদেরও ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ https://tuneoflife.com/blog-2

Leave a Comment

%d bloggers like this: