স্বাস্থ্যের উপর রোজা রাখার উপকারিতা।

স্বাস্থ্যের উপর রোজা রাখার উপকারিতা।

রোজা রাখার উপকারিতা
রোজা রাখার উপকারিতা

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হচ্চে সাওম বা রোজা। রোজা রাখার ফজিলত অনেক এবং এর উপকারিতাও অনেক। রোজা পালনে মানুষের মনে খোদাভীতি জন্মে, যাবে তাকওয়া বলা হয়। এছাড়া কোরআন শরীফ ও হাদিসে রোজার উপকারিতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।

কিন্তু রোজা রাখার ফলে স্বাস্থ্যের উপরেও উপকারিতা হয়, সেটি অনেকেই জানেন না। রমজান মাসের টানা এক মাস রোজা রাখার ফলে আমাদের শরীরে যে সকল প্রভাব পরিলক্ষিত হয় তা জেনে অবাক হবেন নিশ্চিত। রোজা রাখলে আমাদের শরীরে অমূল পরিবর্তন ও ক্ষতিপূরণ হয়। আসুন জেনে নেই, স্বাস্থ্যের উপর রোজার উপকারিতাগুলো কি কি।

রোজার রাখার উপকারিতা

রোজা থাকার কারণে সবয়ে সুফল পান মোটা বা স্থূল মানুষেরা। রনজান মাস ওজন কমানোর জন্য একটি উপযুক্ত সময় হয়ে দাঁড়ায়। শুধু তাই নয়, পরিমিত ও সুষম খাদ্য গ্রহনের মাধ্যমে শরীরের মেদ বা চর্বি ঝড়াতে পারেন।

আমাদের শরীরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে কিডনি ও লিভার। এই দুটি অঙ্গের উপর আমাদের শপ্রীর অনেক চাপ দেয়, যার ফলে অনেকের এই অঙ্গ দুটিতে সমস্যারও দেখা দেয়। কিন্তু রোজার সময় এই দুই অঙ্গে চাপ কম পড়ে। যেটি লিভার ক্যান্সার বা কিডলি বিকল রোগের ঝুকি কমায়।

অতিভোজনের কারণে অনেক সময় আমরা আলস্যে পতিত হই। কাজ কর্ম করতে ইচ্ছা হয় না। কিন্তু রমজান মাস আসলে দেখা যায় আমাদের কাজে গতি বাড়ে। কাজ করার প্রতি আলাদা আকর্ষণ দেখা যায়।

রোজার বড় একটি উপকারিতা হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং হাঁপানি রোগীদের এসময় স্বাস্থ্য ঝুকি কম থাকে। কারণ রোজাদারদের রক্তে ক্ষতিকর ফ্যাট কমে যায়। এছাড়া রোজা দিলে স্ট্রেস হরমোন কমে যায়, এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

আমরা যখন টানা ১৫ থেকে ৬ ঘন্টা না খেয়ে থাকি তখন আমাদের পাকস্থলী থেকে শুরু করে অন্যান্য পাচনতন্তের অঙ্গগুলো স্বাভাবিক থাকে। হজমজনিত নানা রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে রোজা রাখার বিকল্প নেই।

শারীরিক প্রদাহ, ঘা, বাত ইত্যাদি রোগ থেকে মুক্তি দেয় রোজা। রোজা মূলত আমাদের শরীরকে শক্তিশালী ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসহ একটি পর্যায়ে নিয়ে আসে।

রোজার সময় আমাদেরকে খারাপ অভ্যাস, যেমন ধুমপান ও নেশাজাতীয় সামগ্রী গ্রহণ ইত্যাদি ত্যাগ করতে হয়। এগুলো শরীরের জন্য কতটা অপকারী সেটা আমাদের সকলের জানা। রমজান মাসে এগুলো গ্রহণ করা হয় না বলে শরীরের আক্রান্ত অঙ্গগুলো নিজেদের ক্ষতিপূরণ করতে সুযোগ পায়। অবেক সময় টানা এক মাস নেশা দ্রব থেকে দূরে থাকার কারণে নেশা ছুটেও যায়

আপনারা জেনে অবাক হবেন, একজন বিজ্ঞানী রোজার উপকারিতা নিয়ে গবেষণা করে নোবেল পুরষ্কারও পেয়েছেন। তিনি হচ্ছেন জাপানের ইউশিনোরি ওহসোমি। তিনি গবেষণা থেকে রোজার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারেন। 

আমাদের শরীরে এমন অনেক কোষ থাকে যেগুলো মৃত, কিন্তু শরীর থেকে সহজেই বের হতে পারে না। এগুলো আমাদের শরীরের জন্য কাটা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আমরা যখন রোজা রাখি তখন আমাদের শরীর একটি বিশেষ কার্যকলাপ করে। আমাদের শরীর তখন নিজেই নিজেকে খেতে শুরু করে! অদ্ভুত শোনালেও বিষয়টা খুলে বললে ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

আমাদের শরীরে যত মৃত কোষ রয়েছে, শরীর সেগুল খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে। এতে সেই মৃত কোষগুলো থেকে আমাদের দেহ মুক্তি পেয়ে যায়। এর ফলে আমাদের দেহ সবল ও সজীবতা ফিরে পায়। অনেক সময় বিভিন্ন রপগ থেকে ঝুকিমুক্ত লাভ করে। এই প্রক্রিয়াটিকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন অটোফেইজ। এই প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেই জাপানী বিজ্ঞানী ইউশিনোরি ওহসোমি লাভ করেছেন পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার নোবেল প্রাইজ।

রোজার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হচ্ছে মানসিক প্রশান্তি। এখন মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও অনেকে সচেতন এবং এটি স্বাস্থ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সকলেরই জানা। রোজা দিলে মন ভালো থাকে, আত্মার উন্নতি সাধিত হয়, বিভিন্ন মানবিক গুণাবলির বিকাশ হয়। মন ভালো থাকলে শরীরও ভালো থাকে।

রোজা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর বিশেষ এক নিয়ামত। আল্লাহর হুকুমে আমরা রোজা পালন করি এবং অসংখ্য সোয়াব লাভ করি। কিন্তু রোজা দেওয়ার যে স্বাস্থ্যের উপকারিতাও রয়েছে সেটা হয়তো আমরা অনেক কম জনই জানি। আশা করি এই লেখার মাধ্যমে কিছুটা হলেও ধারনা পাওয়া যাবে যে, রমজান মাসে সিয়াম পালন বা রোজা রাখা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী।

আরও জানুনঃ রোজার সময় (fasting) সেহরি ও ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন

Leave a Comment

%d bloggers like this: