শিশুর মানসিক বিকাশ!! করণীয় 07 টি বিষয়।

 

শিশুর মানসিক বিকাশ

শিশুর মানসিক বিকাশ
শিশুর মানসিক বিকাশ

শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ শিশুকেই আমরা বলে থাকি সুস্থ শিশু। শিশুর শারীরিক বিকাশে আমরা যথেষ্ট সচেতন হলেও মানসিক বিকাশ নিয়ে অনেকে তেমন কিছু ভাবেন না। ফলে অনেক সময় শিশুর মানসিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।

শিশুর মানসিক বিকাশ কী?

একটি শিশুর বয়সের সাথে শুধুমাত্র তার শারীরিক বিকাশ ঘটে না, সেই সাথে মানসিক বিকাশও ঘটে। এই মানসিক বিকাশ শিশুর মনকে প্রভাবিত করে এবং প্রত্যেকটি বিষয়কে অন্য মাত্রায় দেখতে ও শুনতে পারার ক্ষমতা দেয়। মানসিক বিকাশ হচ্ছে বয়সের সাথে পরিপক্কতা অর্জন। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।

শিশুর মানসিক বিকাশ কেন জরুরি?

শিশুর শারীরিক বিকাশ নিয়ে আমাদের অভিভাবকদের দুঃচিন্তায় দেখতে পাওয়া যায়। অনেক সময় শিশুর সুষ্ঠ শারীরিক বিকাশ না হওয়ায় শিশুর শারীরিক সমস্যাও ভবিষ্যতে দেখতে পাওয়া যায়।

ঠিক তেমনই মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রেও দেখতে পাওয়া যায়। যদি শিশুর মানসিক বিকাশে বিঘ্ন ঘটে সেক্ষেত্রে শিশুর ভবিষ্যতে নানা সমস্যায় মুখোমুখি হতে পারে, যেমন বিষন্নতা, অন্তর্মুখী, আক্রমনাত্মক, অসামাজিকতা ইত্যাদি। তাই এখন থেকেই শিশুর মানসিক বিকাশ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা জরুরি।

শিশুর মানসিক বিকাশের উপায়

মজার ব্যাপার হচ্ছে, শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য আপনাকে তেমন কোনো পরিশ্রম করতে হবে না। শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটবে নিজে নিজেই। শুধু আপনাকে সেটির পরিবেশ ও উপকরণ এনে দিতে হবে। নিচে উল্লেখিত উপায়গুলোর মাধ্যমে আপনার শিশুর মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পারেন।

১. আপনার শিশুকে খেলনা কিনে দিন। শিশুরা খেলনা পছন্দ করে এবং খেলনা পেলে তাদের খুশির আর বাধ থাকে না। শিশুরা খেলনা ভেঙে ফেললেও তাদের খেলনা কিনে দিন।

২. অন্য শিশুদের সাথে খেলতে দিন। অন্য শিশুদের সাথে মিশলে শিশুদের লজ্জাভাব কমে যায়। অন্য শিশুদের সাথে মিশলে আপনার শিশুও অন্যদের সাথে সহজে মিশতে পারবে।

৩. চিত্রসংবলিত বই কিনে দিন। শিশুদের হাতে বই তুলে দেওয়া উচিত। কেননা বই শিশুদের পড়ার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া চিত্র দেখে তারা অনেক কিছুই জানতেও পারছে, অনেক কিছু মনেও রাখতে পারবে।

৪. রঙ পেন্সিল দিয়ে ছবি আঁকতে বলুন। শিশুরা আকতে ভালোবাসে। তাদের হাতে রঙ পেন্সিল তুলে দিলে ইচ্ছামত আকাবুকি করতে থাকবে। তারা নতুন কিছু চিন্তা করতে শিখবে এবং শিল্পের সাথে পরিচয়ও ঘটবে।

৫. মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার থেকে দূরে রাখুন। আধুনিক সভ্যতার আশীর্বাদ মোবাইল বা কম্পিউটার আপনার শিশুর মানসিক বিকাশে বাধা হয়ে দাড়াতে পারে। এগুলোর প্রতি শিশুরা সহজেই আসক্ত হয়ে যেতে পারে। যার ফলাফল হতে পারে জঘন্য। তাই শিশু হতে এই ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো দূরে রাখুন।

৬. লেখাপড়ায় জোর জবরদস্তি করবেন না। শিশুরা অনেক কৌতুহল প্রবণ হয়ে থাকে। তাদের একটা জিনিসের প্রতি বেশিক্ষণ মন বসে না। তেমনই অনেক সময় তাদের লেখাপড়া নিয়ে আগ্রহ কমে যায়। এই অবস্থায় তাদের সাথে কোনো প্রকার জোর খাটানো উচিত নয়। বরং পড়ালেখা কিভাবে তার কাছে আনন্দদায়ক করা যায় সেটি নিয়ে ভাবা উচিত।

৭. সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করুন। মানসিক বিকাশে সুস্থ পরিবেশের বিকল্প নেই। সুস্থ পরিবেশ বলতে শিশুরা যে পরিবেশে বড় হচ্ছে সেখানে বড়দের যথাসম্ভব নেতিবাচক আচরণগুলো প্রকাশ না পাওয়া। নেতিবাচক আচরণ যেমন, রাগারাগি করা, গালাগালি করা, হিংসাত্মক মনোভাব, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি যদি শিশুরা বড়দের কাছে দেখে সেক্ষেত্রে শিশুদের মনে এগুলো মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদেরও এসব নেতিবাচক আচরণ চর্চা করতেও দেখা যেতে পারে। শিশুরা বড়দের দেখেই শিখে, তাই ইতিবাচক দিকগুলো তাদের সামনে চর্চা করা উচিত।

শিশুরা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। একসময় তাদের হাতেই দেশ চলবে। শিশুর মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের নয়, সমাজেরও দ্বায়িত্ব। শিশুকে সময় দিন, নিয়মিত কথা বলুন তার সাথে। তারা যাতে আপনাকে বন্ধুর মতো মনে করে এবং সকল কথা শেয়ার করার মানসিকতা নিয়ে থাকে সেটি নিশ্চিত করুন।

শিশুদের বয়স কম, তাদের দ্বারা ভুল হবে স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের কোনো ভুলের জন্য শাসন বা শারীরিক আঘাত করা যাবে না। শিশুরা যাতে কারো প্রতি নেতিবাচক মনোভাব না রাখে সেটি লক্ষ্য রাখবেন। একজন অভিভাবক হিসেবে শিশুদের শারীরিক মানসিক দুই ধরনের সুস্থতা নিশ্চিত করা আপনার অবশ্য দায়িত্ব। আর সেটা নিশ্চিত করতে আপনার সর্বাত্মক চেষ্টা করা জরুরি। আশা করি এই লেখায় মাধ্যমে কিছুটা হলেও ধারনা পাবেন এবং এভাবেই আপনি শিশুর মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ https://tuneoflife.com/blog-2

Leave a Comment

%d bloggers like this: