রোজার সময় (fasting) সেহরি ও ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন

রোজার সময় (fasting) সেহরি ও ইফতারে কী খাবেন, কী খাবেন না

Fasting সেহরি ও ইফতারে
Fasting সেহরি ও ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন

অত্যন্ত বরকতময় মাস হচ্ছে রমজান মাস। পবিত্র এই মাসে বিশ্বের মুসলিমরা প্রত্যেকদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাওম বা রোজা রাখেন। সাওম ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং সাওমের প্রাপ্তি অতুলনীয়। রমজান মাসে ফজরের আজানের আগে আমরা সেহরি খেয়ে রোজা শুরু করি এবং মাগরিবের আজান শোনার পর ইফতার খেয়ে রোজা সমাপ্ত করি। আজকের লেখাটিতে আমরা জানবো সেহরি ও ইফতারে কী খাবেন, কী খাবেন না।

রোজার সময় আমরা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকি, তাই সেহরি ও ইফতারে আমাদের খাদ্য নির্বাচন উপযুক্ত ও স্বাস্থ্যকর হওয়া উচিত। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করছে তার সেহরি ও ইফতারে খাদ্য তালিকা কেমন হবে। বিশেষজ্ঞরা সেহরি ও ইফতারের খাদ্য তালিকা কেমন হওয়া উচিত এবং কোন কোন খাদ্যসমূহ এড়িয়ে চলা উচিত তা নিয়ে অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। চলুন জেনে নেই, সেহরি ও ইফতারে কী খাবেন, কী খাবেন না।

সেহরিতে কী খাবেন, কী খাবেন না

  • ফজরের আজানের অন্তত এক ঘন্টা আগে খাওয়া শেষ করে নিবেন। যা খাবেন ধীরে ধীরে খাবেন, তাড়াহুড়োর কিছু নেই।
  • একসাথে কয়েক গ্লাস পানি না খেয়ে ৩ মিনিট পর পর এক গ্লাস করে পানি পান করুন। নয়তো একসাথে বেশি করে পানি খেলে বমি বমি ভাব চলে আসতে পারে।
  • সেহেরিতে ভাতের সাথে মাছ, মাংস বা ডিম রাখুন। বেশি করে আমিষ খাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • দুধ বা ফলের রস খেতে পারেন। দুধ ভাত খেতেও পারেন আলাদাভাবে। এছাড়া ভাত খাওয়ার কিছুক্ষণ পরে একটি পাকা কলা খেতে পারেন।
  • কোনো মশলাযুক্ত খাবার খাবেন না। তেলে ভাজা কোনো খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ইফতারে কী খাবেন, কী খাবেন না

  • খেজুর ও পানি দিয়ে দিয়ে ইফতার শুরু করুন। খেজুরে রয়েছে গ্লুকোজ, যা দ্রত সময়ে শরীরে শক্তি জোগায়। ইফতারে ২/৩ টি করে খেজুর খেতে পারেন। তবে ডায়াবেটিসের রোগীরা ১টি করে খেতে পারেন। এছাড়া জনপ্রিয় ইসুবগুল নিয়মিত খেতে পারেন, যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
  • চিনি দেওয়া শরবতের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর ফলের জুস খেতে পারেন। এছাড়া স্যালাইনও হতে পারে ভালো একটি অপশন। তবে লেবুর রস যুক্ত পানীয় আপনার শরীরকে দ্রুতই সতেজ করে তুলবে। তাই চিনি ছাড়া পানীয়কে অগ্রাধিকারে রাখুন।
  • ইফতারে ফল-মূল রাখুন বেশি করে। ফলে ভিটামিন, খনিজ উপাদান থেকে শুরু করে আমাদের দেহের সকল প্রয়োজনীয় উপাদানের উপস্থিতি সাথে। এছাড়া ফলে প্রচুর পরিমানে পানি থাকে, যা পানি ঘাটতি পূরণ করবে। তাই বিভিন্ন মৌসুমি ফল রাখতে পারেন ইফতারের প্লেটে।
  • দুগ্ধজাতীয় খাদ্য, যেমন দই, পায়েস, ছানা, সেমাই ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখুন। দুধ থেকে ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের ঘাটতি সহজেই পূরণ হবে।
  • বিভিন্ন সালাদ, যেমন, শসা, টমেটো, গাজর ইত্যাদি ইফতারে রাখবেন। সালাদ পেটের জন্য উপকারী।
  • মুড়ি ছাড়া ইফতার অনেকের কাছে অসম্পূর্ণ মনে হয়। জনপ্রিয় এই খাদ্য উপাদানটি অবশ্যই গ্রহন করা উচিত। মুড়িতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন।
  • চাল, ডাল, ডিম ইত্যাদির খাবার দিয়ে আপনার ইফতার সাজান। ইফতারের সময় আমাদের শরীরের আমিষ ও প্রোটিনের প্রয়োজন হয়, যা উক্ত খাদ্যগুলো সহজেই পূরণ করবে।
  • ইফতারের প্লেট তেলে ভাজা খাদ্য মুক্ত রাখুন। তেলে ভাজা খাদ্য, যেমন, পেয়াজু, বড়া, পাকোড়া, বেগুনি, চপ ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। এগুলো নিঃসন্দেহে আপনার স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। উপরন্তু ইফতারের সময় আমাদের পেট খালি থাকে, যার কারণে এসব খাদ্য আমাদের পেটে ক্ষতি একটি বেশিই করে ফেলে। এগুলোর বিকল্প আপনি ফলমূলকে ধরে রাখতে পারেন।

মুসলমানদের কাছে পবিত্রতম মাস হচ্ছে রমজান। রমজান মাসে সাওম হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এক নিয়ামত। পবিত্র এই মাসে শরীর নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। রোজা আমাদের শরীরের জন্য উপকারীও বটে। সেহেরি ও ইফতারে যদি উপযুক্ত খাবারের ব্যবস্থা করেন, সেক্ষেত্রে আপনার মানসিক ও শারিরীক স্বাস্থ্যের উপর সুফল পাবেন।

রমজান মাস সিয়াম সাধনার মাস। সংযমের মাস। তাই প্রকৃত রোজাদার এর বৈশিষ্ট হচ্ছে সকল কাজে কর্মে সংযমের পরিচয় দেয়া। এই সংযম যেনো সেহেরি এবং ইফতার এর খাবার সময় ও আমরা ধরে রাখতে পারি সেই চেষ্টাই করব ইনশাল্লাহ। আশা করছি, সেহরি ও ইফতারে কী খাবেন, কী খাবেন না পরামর্শগুলো আপনাদের কাছে ভালোই লাগবে এবং এর সুফলও পাবেন। আল্লাহ হাফেজ।

আরও পড়ুনঃ https://tuneoflife.com/blog-2

Leave a Comment

%d bloggers like this: