স্থূলতা সমস্যা কি?এর কারণ।এবং এ থেকে প্রতিকার এর 11 টি উপায়।

স্থূলতা এবং প্রতিকার

স্থূলতা এবং প্রতিকার
স্থূলতা এবং প্রতিকার

আধুনিক বিশ্বে স্থূলতা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। স্থুলতা এখন শুধু শারীরিক কোনো সমস্যা নয়, সেই সাথে কোনো স্থূলকায় ব্যক্তিকে মানসিকভাবেও সমস্যায় পড়তে হয়। এই লেখাটিতে থাকছে স্থূলতা ও প্রতিকার নিয়ে পরামর্শ ও টিপস।

স্থূলতা কী

স্থূলতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই কম বেশি ধারণা রাখি। স্থূলতা বলতে সাধারণত শরীরের মোটা অবস্থাকে বুঝিয়ে থাকে। যখন আমাদের শরীরে মেদ অতিরিক্ত জমে যায় এবং শরীরের ওজন উচ্চতা অনুযায়ী অনেক বেশি বেড়ে যায় তখন সেটিকে স্থূলতা বলে থাকি।

কারো ওজন বেশি হলেই তাকে আমরা স্থূলতা বলতে পারি না। ওজনের সাথে উচ্চতাও নির্ভর করে থাকে। দুইজন ব্যক্তির ওজন একই কিন্তু উচ্চতার ভিন্নতার কারণে একজন স্থূলকায় হলেও অন্যজন সুস্বাস্থ্যের অধিকারীও হতে পারেন।

আপনি চাইলে সহজে আপনার বিএমই(BMI) মান বের করে আপনি নিজে স্থূলতায় কিনা সেটি জেনে নিতে পারেন। এর জন্য আপনার ওজনকে (কিলোগ্রাম হিসেবে) আপনার উচ্চতার (মিটার হিসেবে) বর্গ দিয়ে ভাগ করুন। ভাগফল যদি ৩০ এর উপরে হয় সেক্ষেত্রে আপনি স্থূলতায় আক্রান্ত এবং আপনার স্বাস্থ্যে ঝুকি রয়েছে। (পোষ্টের শেষে BMI মান বের করার জন্য কেলকুলেটর দেয়া আছে)।

আমাদের দেশে স্থূলকার মানুষদের নানা রকম বিদ্রুপের স্বীকার হতে হয়। অনেকেই এসবের কারণে মানসিক চাপে পড়ে যান। এছাড়া স্থূলতার কারণে হৃদরোগ থেকে শুরু করে জটিল থেকে জটিল রোগের সৃষ্টি হতে পারে, তাই স্থূলতার প্রতিরোধ একান্তই প্রয়োজন।

স্থূলতার কারণ

মূলত শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমাই স্থূলতার মূল কারণ। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে জিনগত কারণেও স্থুলতা হতে পারে। সেক্ষেত্রে স্থূলতা থেকে কাটিয়ে তোলা অনেকক্ষেত্রেই অসম্ভব হয়ে পড়ে।

যারা খাদ্য রসিক, প্রচুর পরিমানে চর্বিযুক্ত খাবার খান, কিন্তু পরিশ্রম করেন না, তাদের শরীরে সহজেই মেদ জমে যায়। এছাড়া কোমল পানীয়, চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি খেলেও শরীরের ওজন দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। শরীরে হরমোনের ঘাটতিও স্থূলতার অন্যতম একটি কারণ।

এছাড়া যারা নিয়মমাফিক খাবার খান কিন্তু শারীরিক পরিশ্রম করেন না, তারাও কিন্তু স্থূলতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুকিতে থাকেন। মূলত আমরা যে চর্বি গ্রহণ করি সেই চর্বি যদি অব্যবহৃত থাকে, সেটি তখন শরীরের জমা হয়ে থাকে। ফলস্বরূপ, আমাদের ওজনও বেড়েই চলে।

স্থূলতার প্রতিকার

  1. অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। এমনকি আপনার খাদ্যের পরিমান এক-চতুর্থাংশ কমিয়ে আনুন, এতে আপবার শরীরের ওজন দ্রুতই কমে আসবে।
  2. ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয়, ভাজাপোড়া খাবার, রেস্টুরেন্ট বা হোটেল থেকে কেনা খাবার সম্পূর্ণ ত্যাগ করুন। বাসায় রান্না করা স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
  3. ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং প্রতিবার দুপুর ও রাতে খাওয়ার শেষে বেশি বেশি করে সালাদ খান।
  4. চর্বি ও চিনি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কেননা এগুলো আপনার শরীরের প্রধান শত্রু।
  5. দিনে প্রচুর পানি পান করুন।
  6. নিজের হাতে খেতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের অনেক মা খাইয়ে দেন। আবার শিশুরা খাওয়ার সময় মোবাইল বা কম্পিউটারে গেম খেলে বা টেলিভিশন দেখে থাকে। খাওয়ার সময় অন্যান্য কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
  7. দৈনিক খাওয়া দাওয়ার একটি রুটিন করে ফেলুন এবং রুটিন অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করুন। এছাড়া পরিবারের সকল সদস্যের সাথে খাবার খাবেন।
  8. খাবার খাবেন ধীরে ধীরে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে। বড় থালার পরিবর্তে ছোট সাইজের থালা ব্যবহার করবেন।
  9. দিনে কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমান। অপর্যাপ্ত অথবা অতিরিক্ত সময় নিয়ে ঘুমাবেন না। স্বাস্থ্যের উপর ঘুমের প্রভাব রয়েছে।
  10. কায়িক শ্রম করুন। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কায়িক শ্রমের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রতিদিন নিয়মিত ১ ঘন্টা করে হাটুন। খুব ভালো হয় যদি কোনো জিমে যাওয়ার ব্যবস্থা করে ফেলতে পারেন।
  11. ডাক্তার দেখান। ডাক্তারের সুপরামর্শ গ্রহণ করলে ও মেনে চললে স্থূলতা প্রতিকার করা সম্ভব।

স্থূলতা এখন একটি মারাত্মক ব্যাধি হলেও এর নিরাময় সম্ভব এবং অনেকেই স্থুলতা থেকে কাটিয়ে উঠেছেন। খাদ্য গ্রহণে সচেতনতা ও নিয়মিত ব্যায়াম করলেই এই সমস্যা থেকে রেহাই মেলে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু যেহেতু স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল, তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য আপনাকে অবস্থ্যই পরিশ্রম করে যেতে হবে। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়ামের পরেও যদি ওজন না কমে সেক্ষেত্রে ডাক্তারেও পরামর্শ নিন।

আপনার উচ্চতা এবং ওজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য অবস্থা জেনে নিন। আমাদের ওয়েবসাইট থেকেই মেপে নিন আপনার BMI:

আপনার উচ্চতা এবং ওজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য অবস্থা জেনে নিন

Leave a Comment

%d bloggers like this: