ত্বক শুষ্ক? (Dry Skin) জেনে নিন কারণ ও প্রতিরোধ

শুষ্ক ত্বকের যত্ন (Dry Skin)

dry skin
শুষ্ক ত্বক (dry skin)

শীতকালে শুষ্ক ত্বকের (Dry Skin) সমস্যায় আমরা অনেকেই ভুগে থাকি। আবার আমাদের মাঝে অনেকেই এমন আছেন যারা কিনা সারা বছরেই শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ভুগেন। আর শীতকাল আসলে যেন মড়ার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়ায়! এমন অবস্থায় শুষ্ক ত্বকের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ত্বক শুষ্ক হলে সারা শরীরে চিরচিরে ভাব চলে আসে, অস্বস্তি লাগে প্রচুর। অনেক সময় চুলকানিও হয়। সাধারণত আবহাওয়াজনিত কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলেও অনেকের ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। বাড়তি যত্নই আপনাকে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা থেকে রেহাই দিতে পারে।

ত্বক শুষ্ক হবার কারণ

শীতকালে সাধারণত আমাদের ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। শীতকালে বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ একেবারেই কবে যায়। এই অবস্থায় পরিবেশে অন্যান্য স্থানে থাকা পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়ে বায়ুতে মিশে যায়।

শীতকালে আমাদের ত্বকে থাকা আদ্রতা বায়ুতে ছড়িয়ে যায়। ফলে আদ্রতা শূন্য হয়ে আমাদের ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। ঠিক এই কারণেই আমাদের ত্বক শীতকালে শুষ্ক হয়ে পড়ে।

শীতকাল ছাড়া বসন্ত কালেও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। তাই বছরের শেষ মাস গুলোতে দরকার ত্বকের জন্য বাড়তি যত্ন।

তবে জলবায়ুজনিত কারণ ছাড়াও অন্যান্য কারণেও যেমন, জিনগত সমস্যার কারণেও ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। আমাদের ত্বকে অনেক তেল গ্রন্থি থাকে, যেগুলো আমাদের ত্বককে শুষ্কতা থেকে প্রতিরোধ করে।

কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তেল গ্রন্থি প্রয়োজন মাফিক তেল নিঃসরণ করে না। আবার চল্লিশ বছর বয়সের পর তেল গ্রন্থি থেকে তেল নিঃসরণের হারও কমতে থাকে। ফলস্বরূপ, তেলের অভাবে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে।

এগুলো ছাড়াও কিছু গৌণ কারণ থাকতে পারে। যেমন, অনেকের ত্বকের গঠন পাতলা হয়ে থাকে। পাতলা ত্বক সহজেই শুষ্ক হয়। বিভিন্ন পেশাজীবী, যারা বেশি পরিশ্রম ও ধুলোবালির সংস্পর্শে বেশি আসেন তাদেরও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

ক্লোরিনযুক্ত পানিতে সাতার কাটা, গরম পানি দিয়ে গোসল করা, ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করা ইত্যাদির কারণেও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। বিশেষ করে পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হলে ত্বকেও পানির অভাব দেখা যায় এবং ত্বক শুষ্ক হয়।

যারা অতিরিক্ত ঘামে তাদের শরীরেও পানির অভাব দেখা যায়। আবার অনেকে এমন আছেন যারা নিয়মিত গোসল করেন না। কেউ কেউ তো পরিমান মতো পানিও পান করে না। পানির ঘাটতি হলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।

ত্বক শুষ্ক হওয়া থেকে প্রতিরোধ

শুষ্ক ত্বকের যত্ন নিলে আপনি এর থেকে রেহাই পেতে পারেন। তবে সবার আগে আপনাকে ত্বক শুষ্ক হওয়ার কারণটি বের করতে হবে। কারণ জানতে পারলে প্রয়োজন পদক্ষেপ নিতে পারেন।

কম পানি পান করার জন্য ত্বকে শুষ্কতা দেখা দিলে নিয়মিত পানি পান করুন। পানি কম পান করলে শুধু ত্বকের শুষ্কতা নয়, আরো জটিল রোগেও আক্রান্ত হতে পারেন। পরিমিত পানি পান করলে শরীরে আসবে সজীবতা, ত্বকের রুক্ষতা থেকে দ্রুত মুক্তি পাবেন।

আর যদি আপনি নিয়মিত গোসল না করে থাকলে নিয়মিত গোসল করুন। মনে রাখবেন অপরিষ্কারভাবে থাকা মোটেও ভালো কিছু নয়। নিয়মিত গোসল করলে ত্বকের শুষ্কতা কেটে যাবে।

ক্লোরিনযুক্ত পানিতে সাতার কাটা, ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার ও গরম পানি দিয়ে গোসল করা থেকে বিরত থাকুন। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করুন। অতিরিক্ত ঘেমে গেলে গোসল করতে পারেন অথবা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফেলতে পারেন।

শুষ্ক ত্বককে স্বাভাবিক ও মসৃণ করতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। ময়েশ্চারাইজার আপনার ত্বকের শুষ্কতা দূর করবে। এছাড়া ময়েশ্চারাইজার যুক্ত সাবান ব্যবহারও করতে পারেন। যারা সারা বছরেই শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ভোগেন তারা এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে পারেন।

এছাড়া শুষ্ক ত্বকের যত্ন নিতে কিছু ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের শুষ্কতা রোধে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হচ্ছে ওলিভ অয়েল ও নারিকেল তেল। এই তেল আপনি নিয়মিত শরীরে ম্যাসাজ করতে থাকুন। দ্রুতই কাঙ্ক্ষিত ফল পাবেন।

ত্বকের শুষ্কতা খুবই বিরক্তিকর, কখনো কখনো এটি দীর্ঘকালীন সমস্যাও হয়ে দাঁড়ায়। সঠিক উপায়ে শুষ্ক ত্বকের যত্ন নিলে এই সমস্যা থেকে নিরাময় সম্ভব। তবে ত্বক শুষ্কতার সমস্যাটি দীর্ঘকালীন স্থায়ী হয়ে থাকলে বা অসহনীয় চুলকানি দেখা দিলে দ্রুতই কোনো চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞের নিকট যোগাযোগ করুন। চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ব্যাতিত কখনো কোনো অবস্থাতেই কোনো রাসায়নিক বস্তু ত্বকে ব্যাবহার করা যাবেনা। এতে করে দীর্ঘ মেয়াদি দুর্ঘটনার সম্মুখীন হওয়া লাগতে পারে।

আরও পড়ুনঃ https://tuneoflife.com/blog-2

Leave a Comment

%d bloggers like this: