Surrogacy-সন্তান ধারণের অভিনব পদ্ধতি সারোগেসি

Surrogacy

Surrogacy
Surrogacy

সন্তান ধারণের অভিনব পদ্ধতি সারোগেসি

সৃষ্টির শুরু থেকেই মাতৃত্ব বংশ বৃদ্ধির এক আশীর্বাদ স্বরূপ বিরাজ করছে। মানুষ কিংবা পৃথিবীর অন্যান্য সকল প্রাণী ই তার পরবর্তী বংশধরের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব রেখে যেতে চায় পৃথিবীতে। তবে বিংশ শতাব্দীতে এসে বিজ্ঞানের এ যুগে মাতৃত্ব, কিংবা গর্ভধারণের কত প্রকার অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে তা অনেকের ই অজানা বৈ কি!
এমন ই এক পদ্ধতি সারোগেসি। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশেও যে গর্ভধারণ পদ্ধতি টি নিয়ে রয়েছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।

সারোগেসি কি?
সন্তান ধারণে অক্ষম কোনো দম্পতির সন্তান অন্যকোনো মহিলার গর্ভে ধারণ করে জন্মদানের প্রক্রিয়াই মূলত সারোগেসি। অর্থাৎ একজন সুস্থ স্বাভাবিক মহিলা অন্য কোনো দম্পতির হয়ে সন্তান ধারণা করলে তাকে সারোগেসি পদ্ধতি বলা হয়।সন্তানহীন মায়ের মাতৃত্ব উপভোগ করার এই পদ্ধতিটি প্রাচীন বিশ্বে অনেক আগে থেকেই প্রচলিত।

কারা সারোগেসি পদ্ধতি ব্যবহার করে?
নিঃসন্তান দম্পতি তাদের সন্তান ধারণের জন্য একটি গর্ভ ভাড়া নেন। যেখানে তাদের সন্তান বেড়ে ওঠে। যিনি ভাড়া দেন তাকে সারোগেট মাদার বলা হয়। একটি চুক্তিভিত্তিক পত্রের মাধ্যমে তিনি গর্ভ ভাড়া দেন। এই কাজের জন্য তিনি অর্থ পেয়ে থাকেন। সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর প্রকৃত বাবা-মা তাদের সন্তানকে নিয়ে গিয়ে লালন পালন করেন।বৈধ ভাবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গর্ভ ভাড়া নেওয়া হয়। আদালতের মাধ্যমে একটি চুক্তিপত্র তৈরি করা হয় যেখানে সন্তানের পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব নির্ধারণ করা থাকে।

ধর্মীয় মতবাদঃ
বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট,মহাভারতের মতো বিভিন্ন পবিত্র ধর্মগ্রন্থে বিষয়টি নিয়ে বর্ণনা রয়েছে।

সারোগেসি পদ্ধতির প্রক্রিয়া এবং প্রকারভেদ –
মহিলাদের ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণুর সাথে এই ডিম্বাণু মিলিত হয়ে ভ্রূণ সৃষ্টি করে। ভ্রূণ জরায়ুতে বৃদ্ধি পায়। এরপর ৯ মাস ১০ দিনের গর্ভাবস্থা শেষে সন্তান জন্ম নেয়। কোনো মহিলার জরায়ুতে যদি সন্তান ধারণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকলে তাহলে তিনি মা হতে পারেন না। যার ফলে এই সারোগেসি পদ্ধতিটি ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়াও যদি কোনো মহিলার ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার পর জরায়ুতে প্রবেশ করতে না পারে তখন সেক্ষেত্রেও সন্তান ধারণ সম্ভব হয় না।আবার অনেক সময় অকালে মেনোপোজ হলেও অনেক ক্ষেত্রে মহিলার সন্তান ধারণ সম্ভব হয় না।মূলত উপরোক্ত এই সমস্যা গুলোর জন্যই সারোগেসি পদ্ধতিটি বেছে নেওয়া হয়।


এছাড়াও সারোগেসির রয়েছে বিভিন্ন প্রকারভেদ। এটি মূলত দুই ধরনের
১.পার্শিয়াল সারোগেসি
২.ট্রু সারোগেসি

পার্শিয়াল সারোগেসি মূলত দম্পতির মধ্যে স্ত্রীর ডিম্বাণু উৎপাদন ক্ষমতা না থাকলে স্বামীর শুক্রাণু সংগ্রহ করে যে মহিলা গর্ভ ভাড়া দেবে তার ডিম্বাণুর সাথে নিষেক ঘটানো হয়।এতে স্ত্রী সত্যিকারের জেনেটিক মা হতে পারেন না।তার কাছে সন্তানটি শুধু তার স্বামীর সন্তান।এতে আসল মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়া যায় না।

ট্রু সারগেসির ক্ষেত্রে নিঃসন্তান দম্পতির দেহ থেকে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সংগ্রহ করে আইভিএফ পদ্ধতিতে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। তারপর সেই ভ্রূণ সারোগেট মাদারের জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। এটি খুবই প্রচলিত একটি পদ্ধতি। অধিকাংশ নিঃসন্তান দম্পতিই এ পদ্ধতিতে সন্তান নিয়ে থাকেন এই পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তানের পিতৃত্ব মাতৃত্ব নিয়ে কোনো সংশয় থাকে না।এখানে সারোগেট মাদার শুধুমাত্র একজন হোস্ট হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। এজন্য এটিকে হোস্ট সারোগেসি ও বলা যেতে পারে।


ভ্রূণ সাধারণত দুই ভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। ল্যাবরেটরিতে ভ্রূণ গঠনের পর সেটি সরাসরি প্রতিস্থাপন করা হয়,যাকে ফ্রেশ ভ্রূণ বলা হয়।অথবা জমিয়ে রাখা ভ্রূণ ডিফ্রস্ট করে সেটি গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে ভ্রূণ গঠনের পর সাথে সাথে সেটি প্রতিস্থাপন করতে হলে ডিম্বাণু দাতার মায়ের সাথে সারোগেট মায়ের সামঞ্জস্য হওয়া জরুরি। আর এর জন্য সারোগেট মাকে হরমোন পরিবর্তনজনিত ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে।

সারোগেসির সূচনাঃ
১৮৮৫ সালে ট্রু বা হোস্ট সারোগেসির মাধ্যমে আমেরিকায় বিশ্বের প্রথম শিশু জন্মায়। এক্ষেত্রে শিশুটির জেনেটিক বাবা-মা হিসেবে স্বীকৃতি পায় সন্তান পেতে ইচ্ছুক দম্পতি এবং বায়োলজিক্যাল ও লিগ্যাল বাবা-মা হন সারোগেট মা ও তার স্বামী।ভারতীয় আইন অনুযায়ী ২০০৫ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ভারত ছিলো টাকার বিনিময়ে গর্ভ ভাড়া দেয়া বা বানিজ্যিক সারোগেসির হটস্পট। ২০১৬ সালে সারোগেসি বিল পাশ হওয়ার পর বানিজ্যিক সারোগেসি নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।যদি কোনো মহিলা স্ব-ইচ্ছায় গর্ভ দান করে বা সারোগেট মাদার হতে চায় তবে তা বৈধ বা আইন সঙ্গত। একে অ্যালট্রুইস্টিক সারোগেসি বলে।অ্যালট্রুইস্টিক সারোগেসিতে সারোগেট মাদারকে অন্তঃসত্ত্বাকালীন অবস্থায় চিকিৎসা ও ইন্স্যুরেন্স কভারেজ ছাড়া অন্য কোনো রকম অর্থ প্রদান করা যায় না।

To read other articles on this website: https://tuneoflife.com/blog/

Leave a Comment

%d bloggers like this: