হাঁটার উপকারিতা জানেন তো? (walking) । জেনে নিন 12 টি উপকারিতা।

জেনে নিন হাঁটার উপকারিতা

হাঁটার উপকারিতা walking
হাঁটার উপকারিতা (walking)

আজকে আমি আপনাদের সাথে আমাদের এই আর্টিকেলের ভিতরে হাঁটার উপকারিতা (walking) নিয়ে আলোচনা করব।

আশা করি যে , আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা অনেক উপক্রত হবেন। আপনাদের ভিতরে যারা হাঁটাহাঁটি করতে পছন্দ করেন বা যারা জানতে চান হাঁটাহাঁটি করলে কি কি উপকার পাওয়া যায় তাহলে জন্যই কিন্তু আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি। আশা করি যে , আমদের আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাদের কাছে অনেক ভাল লাগবে।

১. মেদ কমিয়ে দেয় 

প্রতিদিন যদি আপনারা হাঁটেন তাহলে কিন্তু আপনাদের মেদ কমে যাবে , আর তার সাথে সাথে আপনাদের শরীরের ওজন ও অনেক নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ভালো কোলেস্টেরল অথবা এইচডিএল বেড়ে যায়, খারাপ কোলেস্টেরল অথবা এলডিএল কমে যায়। ওজন কমাতে হাঁটার নিয়ম

২. ক্যানসারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়

নিয়মিত ভাবে  হাঁটলে কিন্তু  ওজন কমে যেতে থাকে। আর এর ফলে কিন্তু দেখা যায় যে , স্তন ক্যানসারসহ অন্য যে সকল রোগ আছে সেগুলোসহ ক্যানসারের ও ঝুঁকি কমে যেতে থাকে।

৩. শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়


হাঁটার ফলে কিন্তু আমাদের পেশিতে রক্ত সরবরাহ অনেক বেড়ে যেতে থাকে। আর এর ফলে কিন্তু আমাদের শরীরের পেশির শক্তি বেড়ে যেতে থাকে।

৪. মেজাজ ভালো রাখে


নিয়মিত ভাবে হাঁটলে কিন্তু মানুষের মস্তিষ্কে এনডর্ফিন, ডোপামিন, সেরোটোনিন এর মতো ভালো অনুভূতি তৈরি এর জন্য রাসায়নিক নিঃসরণ বেড়ে যেতে থাকে। আর এর ফলে কিন্তু  বিষণ্নতা কমে, মন–মেজাজ অনেকটাই ভালো থাকে, আর তাছারা ও রাতের বেলা ঘুম ও হয় অনেক ভাল।

৫. পায়ের শক্তি বাড়িয়ে দেয়

হাঁটাহাঁটি করলে কিন্তু শুধু পায়ের শক্তিই বাড়ে না বরং  তার সাথে সাথে পায়ের আঙুলের ও ব্যায়াম হতে থাকে । এছাড়া ও কিন্তু কোমর ও শরীরের অন্যান্য সকল অঙ্গ নড়াচড়া করবার কারণে স্বাভাবিক ভাবেই  দেখা যায় যে অনেকটাই সুস্থ থাকে। সকালে হাঁটার উপকারিতা

৬. স্মৃতিশক্তি বাড়ে

বয়স বেড়ে যাবার সাথে সাথে কিন্তু সাধারনত ভাবে মানুষদের স্মৃতিশক্তি কমে যেতে থাকে। ৬৫ কিংবা এর থেকে বেশি বয়সী যারা আছে তাদের ভিতরে কিন্তু প্রত্যেক ১৪ জন এর ভিতরে ১ জনের স্মৃতিভ্রম হয়ে যেতে প্রায় সময়তেই দেখা যায় বা হয়।

৮০ বা এর থেকে বেশি বয়সী যারা আছে তাদের ভিতরে ৬ জন এর ভিতরে ১ জন এর কিন্তু  দেখা দেয় যে স্মৃতি হারিয়ে ফেলার রোগ আছে। নিয়মিত ভাবে যদি বিভিন্ন ব্যায়াম অনুশীলন করা হয় তা হলে কিন্তু মস্তিষ্কে রক্তচলাচল বেড়ে যেতে থাকে। আর এতে করে কিন্তু স্মৃতিহানি হবার ঝুঁকি ৪০ ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে থাকে। যুক্তরাজ্যে ১ গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে , বয়স্ক যারা আছে তাদের ভিতরে যে সকল মানুষেরা প্রত্যেক সপ্তাহে কম করে হলে ও ৬ মাইল পথ হেঁটে থাকেন তাদের স্মৃতিশক্তি  অনেক অটুট থাকে।

৭. শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়

হাঁটলে কিন্তু পেশিতে রক্ত সরবরাহ বেড়ে যেতে থাকে। আর এতে করে পেশি এর শক্তি বেড়ে যেতে থাকে। আশা করি যে, যে বুজতে পেরেছেন হাঁটলে আপনাদের কত উপকার হবে। তাছাড়া ও আরও অনেক উপকারিতা আছে সেগুলো জানতে হলে আমাদের আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন। 

৮. হাড় এবং গিঁটের জন্য ও অনেক ভালো

হাঁটাহাঁটি করলে কিন্তু হাড়ের ঘনত্ব বেড়ে যায় আর ক্ষয় কমে যেতে থাকে। আর তাই আপনাদের ভিতরে যাঁরা নিয়মিত ভাবে হাঁটাহাঁটি করেন , তাঁদের অস্টিওপোরোসিস অনেক কম হয়। হাড় এর  জোড়া অথবা গিঁট অনেক সুস্থ থাকে।

৯. হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ায়


এক জন মানুষ হাটার সময়ে কিন্তু হৃৎস্পন্দন আর তার সঙ্গে শ্বাস প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যেতে থাকে।  আর এর ফলে কিন্তু হৃদযন্ত্র এবং ফুসফুসে রক্ত সরবরাহ বেড়ে যেতে থাকে। আর এতে করে কিন্তু  গুরুত্বপূর্ণ এই ২ অঙ্গের কর্মক্ষমতা বেড়ে যেতে থাকে। ওজন কমাতে হাঁটার উপকারিতা

  • হাঁটার উপকার যদি পেতে চান তাহলে কিন্তু আপনাদেরকে সপ্তাহে কম করে হলে ও ৫ দিন  হাঁটা লাগবে।

১০. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে


নিয়মিত ভাবে হাঁটলে কিন্তু টাইপ–২ ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি কমে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন এর হাঁটা বেশ কার্যকর। হাটাহাঁটি করলে কিন্তু এক জন মানুষের শরীর এর পেশিতে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বেড়ে যেতে থাকে। ফলে রক্তের গ্লুকোজ কমে। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ আর স্ট্রোক এর ঝুঁকি কমিয়ে দেয় আর উচ্চ রক্তচাপ এর কারনে ঝুঁকি কমে যায় এবং সেটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কিন্তু হাঁটা হাঁটি করা অনেক বেশি কার্যকর একটা উপায়।

নিয়মিত ভাবে যদি আপনারা হাঁটেন তা হলে কিন্তু রক্তনালি এর দেয়ালে চর্বি কম জমতে থাকে।  আর তাই করোনারি হৃদ রোগ হবার ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়। তা ছাড়া মূল করোনারি রক্তনালিতে যদি ব্লক থাকে তা হলে ও কিন্তু নিয়মিত ভাবে হাঁটার কারণে আশ পাশের ছোট রক্তনালি গুলোতে রক্ত সরবরাহ এর পরিমাণ বেড়ে যেতে থাকে। আর এর ফলে কিন্তু হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যেতে থাকে। কমে স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার  ঝুঁকি ও কমে যেতে থাকে।

১১. প্রাণবন্ত শরীর ও মন 

এমনিতেই থাকে স্নিগ্ধ। এই সময়তে কিন্তু হাঁটার মজাটাই আসলে আলাদা। প্রকৃতি এর সৌন্দর্য উপভোগ করার সময়ে কিন্তু মন স্বাভাবিক রকম ভাবেই ফুরফুরে হয়ে থাকে, শরীর আর মন অনেক সতেজ হয়ে থাকে। শরীর এর প্রত্যেকটা জয়েন্টে অক্সিজেন এর প্রাণ প্রবাহে মাংসপেশী গুলোকে কিন্তু শিথিল আর রিলাক্সড হয়ে থাকে।

১২.  মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে

নিষ্ক্রিয় থাকবার অর্থ  হল যে শরীরে পেশীর শক্তি কমে যেতে থাকা । কিন্তু এর থেকে  বড় কথা হল যে  এর  ফলে মস্তিষ্ক ও শুকিয়ে মরে যাওয়া শুরু করে দিতে থাকে । আমরা যখন হাঁটা হাঁটি করি  তখন কিন্তু আসলে আমাদের পেশীতে তৈরি হওয়া মলিকিউল অথবা অণু আমাদের মস্তিষ্কটাকে সচল রাখার জন্য অনেক সাহায্য করে থাকে।

আর তার ভিতরে ১ টি বিশেষ অণু মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল করার জন্য অনেক সাহায্য করে থাকে। আর এর ফলে কিন্তু  আমাদের ব্রেন এর কোষগুলো ও বিকশিত হয়ে থাকে। যার কারনে  হাঁটলে মস্তিষ্ক আগের থেকে আর ও অনেক শক্তিশালী হয়ে যেতে থাকে।

দ্রুত হাটার উপকারিতা

হাঁটা হাঁটি করা কিন্তু বেশ ভালো ১টি ব্যায়াম। তবে অনেকেই আছেন যাদের জন্য ধীরে না, বরং দ্রুত হাঁটা বেশি পরিমানে উপকারী। আসুন তা হলে জেনে নেই  দ্রুত হাঁটার ১০ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য।

১. শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য অনেক সাহায্য করে আর এই মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ এবং  হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে থাকে।

২. দ্রুত হাঁটা আর ব্যায়ামের মাধ্যমে কিন্তু ওজন কমিয়ে নিয়ে ৬০% উচ্চ রক্তচাপ রোগী ঔষধ না  খেয়েই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতেছেন।

৩. হার্ট যদি ভাল থাকে তাহলে কিন্তু হার্টে ব্লক ও হয়ে যেতে পারে না।

৪. প্রত্যেকদিন ১ ঘন্টা দ্রুত যদি হাঁটা হাঁটি করা হয় তা হলে কিন্তু শরীরের  অতিরিক্ত চর্বি হ্রাস পেতে থাকে। আর এর ফলে কিন্তু হৃদরোগ এর ঝুঁকির পরিমাণ কমে যেতে থাকে ও শরীরে মেদভূঁড়ি জমা  হতে দেয় না।

৫. আপনাদের ভিতরে যারা নিয়মিত ভাবে অনেক দ্রুত হাঁটেন তাদের ভিতরে কিন্তু বলতে গেলে ৬৪% লোক এর  স্ট্রোক করার ঝুকি থাকেই না। 

৬. সকল রকমের বুক এর ব্যথা উপশম হয়ে  যেতে থাকে আর হার্ট প্রত্যেকদিন ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ বার অতিরিক্ত স্পন্দন হতে কিন্তু বিরত থাকে। আর ফলে কিন্তু হার্টের উপর হতে  অনেক বাড়তি কাজ এর চাপ হ্রাস পেয়ে যেতে থাকে।

৭. গবেষণাতে দেখা গিয়েছে যে আপনাদের ভিতরে যাদের প্রত্যেক দিন নিয়মিত ভাবে হাঁটাহাঁটি করে তাদের আয়ু অনেক বেশী থাকে।

৮. ডায়াবেটিস রোগ হতে পারে না আর রোগ থাকলে ও কিন্ত সেটা অনেক নিয়ন্ত্রনে থাকে।

৯. হজম শক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে আর ক্ষুধার পরিমান ও আগের থেকে অনেকটাই বেশি বাড়িয়ে দেয়।

১০. অনেক ভাল ভাবে ঘুম হয়ে থাকে।

আমাদের শেষ কথা

আশা করি যে, আজকে আমাদের এই আর্টিকেলটি আপনাদের কাছে অনেক ভাল লেগেছে। আমাদের কাজকের আলোচনার মূল বিষয় ছিল হাঁটার উপকারিতা নিয়ে। আশা করি যে,আজকে আমাদের এই আর্টিকেলটি থেকে আপনারা অনেক কিছু জানতে পেরেছেন। লেখাটি আপনাদের বন্ধুদের কাছে শেয়ার করে দিবেন তাহলে তারা ও জানতে পারবে।     

আরও পড়ুনঃ https://tuneoflife.com/blog-2

Leave a Comment

%d bloggers like this: